টাইম মেশিন এর ধারণা কোথা থেকে এলো? Time Machine History

টাইম মেশিন এর ধারণা কোথা থেকে এলো? Time Machine History

টাইম মেশিন এর ধারণা কোথা থেকে এলো? Time Machine History
14 November, 2020

Time Machine History

টাইম মেশিন এর ধারণা কোথা থেকে এলো?










x

টাইম ট্রাভেল এ কথাটা শুনলে আমাদের চোখের সামনে কি ভেসে উঠে?

আমরা চিন্তা করি মস্ত বড় একটা টাইম মেশিনের কথা। যার মাধ্যমে আমরা অতীতে চলে যাব, না হয় ভবিষ্যৎ দেখতে পাবো।


Let's talk about Time Machine


কল্পনা বা বাস্তব যাই হোক না কেন এই টাইম মেশিনে আমাদের আগ্রহের শেষ নেই। চলুন না দেখে নিই কোথা থেকে আসলো এই টাইম মেশিন।


1819 সালে ওয়াশিংটন হারবিংয়ের বিখ্যাত রেপ গান উইংকেল বেশ সাড়া ফেলে দেয়। ডাচ বংশোদ্ভূত রিপ ভবঘুরে টাইপের ছিলেন।একদিন স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করার পর সবকিছু থেকে ক্ষনিকের রেহাই পেতে নিজের পোষা কুকুর কে নিয়ে পর্বতের দিকে রওনা দেন।


তিনি একটি কাঠবিড়ালি কে অনুসরণ করে করে চলে যায় পর্বতের একদম চূড়ায়। দেখা হয় দাড়িওয়ালা কিছু অদ্ভুত লোকেদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে থাকা মদ খেয়ে কাবু হয়ে যান রিপ।

ব্যাস, ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার জীবন থেকে 20 বছর গায়েব।


টাইম ট্রাভেল নিয়ে তখন থেকেই জল্পনা-কল্পনায় বেশ বেগ আসতে শুরু করে। প্রাচীন মহাকাব্যের বা লোকগল্পে সময় ভ্রমণ নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত ছিল।


খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে রচিত মহাভারতে রাজা কাপদমির কাহিনীতে টাইম ট্রাভেলের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যেখানে রাজা ও তার কন্যা রেবতীর সময় যাত্রার কথা উল্লেখ রয়েছে।


খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীর জাপানের লোককথার এক চরিত্র ওরাসীমাকো বা ওরাশিমা তারোর সময় ভ্রমণের গল্প বেশ জনপ্রিয়। আইরিশ লেখক স্যামুয়েল মেদেন এর মেমোরিজ অফ দা টুয়েন্টি সেঞ্চুরি তে সময় ভ্রমণের কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।


1770 সালে ফরাসি লেখক লুইস সেবাস্তিয়ান মার্জিয়ার এর 2440 বছর স্বপ্ন যদি সত্যি হয় উপন্যাসটি বেশ বিখ্যাত হয়ে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির সময় ভ্রমণের কারণে।


চার্লস ডিকেন্সের আ ক্রিসমাস ক্যারল ১৮৬১ সালের ফরাসি উদ্ভিদবিদ এবং ভূতত্ত্ববিদ বাইটোর্ড এর প্যারিস আভন্ট লেস হোম বইটির লিখায় সময় ভ্রমনের চমৎকার সংমিশ্রন দেখতে পাওয়া যায়।


একশত বছর আগে তখন টাইম ট্রাভেল মানে ছিল বর্তমান থেকে ভবিষ্যৎ এ চলে যাওয়া।

১৮৮৯ সালে মার্ক টুয়েন টাইম ট্রাভেলের মাধ্যমে প্রথম সময়ের পেছনে যাওয়ার কথা প্রকাশ করেন।


বাস্তব কিংবা কল্পনার বিচারে না গিয়ে সাহিত্যে এবং রূপালি পর্দায় টাইম ট্রাভেলকে নানান ভাবে উপস্থাপন মানুষের টাইম ট্রাভেলের কাল্পনিক আশা কে সবসময় উষ্কে দিয়েছে।


আলোর বেগের যত কাছাকাছি যাবেন, সময় তত ধীরে চলবে এবং আলোর গতিতে সময় থেমে যাবে। আর আলোর গতির চেয়ে বেশি গতিতে চললে সময় উল্টো দিকে যেতে থাকবে। অর্থাৎ আপনি অতীতে যেতে থাকবেন।


কিন্তু আপনি আলোর গতির চেয়ে কম গতির হলে ফিউচারের দিকে অগ্রসর হতে থাকবেন। যেটা প্রাকৃতিকভাবেই আমাদের সাথে ঘটছে।


এই ছিল আজকের টাইম ট্রাভেল নিয়ে কথা। আশা করছি আগামী পর্বে আপনাদের নতুন কিছু সম্পর্কে বিশেষভাবে ধারণা দিতে পারব। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।